ক্ষ’মতার প্রতাপ শুধু বাইরে নয়, যেভাবে পরিবারের মধ্যেও চালিয়েছিলেন ইরফান

যেভাবে পরিবারের মধ্যেও চালিয়েছিলেন ইরফান-ক্ষ’মতার প্রতাপ শুধু বাইরে নয়, পরিবারের মধ্যেও চা’লিয়েছিলেন ইরফান। সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের পুরো পরিবারের অ’শান্তির কারণ ছিলেন তিনি। ইরফান দুই ভাইকে বাদ দিয়ে একাই বাবা হাজী সেলিমের সব স’ম্পত্তি দ’খলের চে’ষ্টায় ছিলেন। এর প্র’তিবাদ করার কারণে বড় ভাই সোলেমান সে’লিমের গায়ে হাত তু’লতেও দ্বি’ধা ক’রেননি তি’নি।

তার সম্পত্তি দখলে ছোট ভাই আশিক সেলিম যেন বা’ধা হয়ে না দাঁড়ান এজন্য তাকে কৌ’শলে অস্ট্রেলিয়া পা’ঠিয়ে দিয়েছেন। দেশে এসে যাতে আ’শিক ব্যবসা বাণিজ্যের ওপর প্র’ভাব বি’স্তার করতে না পারে এজন্য তাকে অ’তিরিক্ত টাকা পাঠান। আর বড় ভাই সোলেমান সেলিম অনেকটা ইরফানের কাছে জি’ম্মি। আ’ইনশৃঙ্খলা বা’হিনী সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

সূত্রমতে, ২০১৮ সালের জুন মাসে ইরফান তার বাবার কাছে সমস্ত স’ম্পত্তি লিখে নেয়ার জন্য চাপ দেন। কিন্তু অপর দুই সন্তানের ভ’বিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি তা করতে রাজি হননি। যে কারণে হাজী সেলিমকে বেশ কিছুদিন বাড়ির বাইরে বের হতে দেননি ইরফান। এতে তিনি সন্তান ইরফানের ওপর আরো ক্ষি’প্ত হন। সন্তানের এমন অপকীর্তির কারণে লোকলজ্জায় হাজী সেলিম বাইরে কাউকে কিছু বলতে চাননি।

পু’লিশ সূত্রে জানা গেছে, ইরফান নৌ’বাহিনীর ক’র্মকর্তাকে পি’টিয়ে ঘ’টনাস্থল থেকে গাড়ি রেখে পা’লিয়ে যান। পরে যখন বিষয়টি চাউর হয়ে যায়, তখন নিজে বাঁ’চার জন্য তাদের প্রতিষ্ঠান মদিনা গ্রুপের ক’র্মকর্তাকে ধা’নমণ্ডি থা’নায় পাঠান, যেন বিষয়টি আপসের মাধ্যমে সমাধান হয়ে যায়। যাতে ওই কর্মকর্তা কোনো মা’মলা না করেন। শুধু থানায় নয়, তারা পু’লিশের ঊ’র্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন আপসের জন্য।

কিন্তু পু’লিশ সদর দপ্তর থেকে ধানমণ্ডি থা’নায় সিগন্যাল যায় যে, ভিকটিম যে প’দক্ষেপ নিতে চাইবে সেই পদক্ষেপে যাতে পু’লিশ সায় দেয়। অ’ভিযোগ নিতে যেনো পু’লিশ গড়িমসি না করে। পু’লিশের শক্ত অ’বস্থান এবং ঊ’র্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কড়া সিগন্যালের কারণে ইরফানের আপসের পরিকল্পনা ভে’স্তে যায়। এ বিষয়ে জানতে চা’ইলে পু’লিশের ধা’নমণ্ডি জোনের এডিসি আব্দুল্লাহিল কাফি মানবজমিনকে জানান,

নৌবা’হিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফের মা’রধরের ঘটনায় দু’পক্ষই থানায় এসেছিল। পরে ভিকটিমের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, তিনি মা’মলা করবেন। পু’লিশ তার মা’মলা নিয়েছে। বিষয়টি পু’লিশ সু’ষ্ঠুভাবে ত’দারকি করেছে। মা’মলার ত’দন্তকারী ক’র্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, হাজী সেলিম অসুস্থ হওয়ার আগে পুরো ব্যবসার ভার তিনি একাই সা’মলাতেন।

যখনই তিনি স্ট্রোক করে বা’কশক্তি হা’রিয়ে ফেলেন তখনই মদিনা গ্রুপের পুরো ব্যবসা নিজে ক’ব্জা করার চেষ্টা করেন ইরফান। তার এই অ’পকর্মে দুই ভাই ছিলেন বড় অ’সহায়। অনেকটা বাধ্য হয়ে সোলেমান সে’লিম চুপ হয়ে যান। মদি’না গ্রুপের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা তার ভয়ে তটস্থ থাকতেন। তার দ্বারা একাধিক কর্মকর্তা মা’নসিক নি’র্যাতনের কা’রণে চাকরি ছে’ড়েছেন বলে জানা গেছে।

পু’লিশ জানায়, বাসা বা অফিস থেকে যখন তিনি বের হতেন তখন তার ব্যক্তিগত নি’রাপত্তা কর্মীরা এবং প্রাইভেট বাহিনীর সদস্যরা গাড়ির হুইসেল বাজিয়ে পুরো রাস্তা ফাঁ’কা করতেন। হুইসেল শোনার পর যদি কারও গাড়ি রাস্তা থেকে দ্রুত না সরতো তাহলে তাদের কপালে তাৎক্ষণিক শ’নির দশা নেমে আ’সতো। তার প্রাইভেট বা’হিনী তাকে সে’খানেই পি’টিয়ে জখম করে দিতো। ঘ’টনাস্থলে পু’লিশ এবং সাধারণ মানুষ বিষয়গুলো দেখেও না দেখার ভান করতো।

সূত্র জানায়, প্রতিদিন গভীর রাতে ইরফান তার ক্যা’ডার বাহিনীকে নিয়ে চকবাজার এলাকায় হাঁটতে বের হতেন। রাতে ব্য’ক্তিগত কাজে কেউ বের হলে তিনি তাদের অ’যথা জেরা করতেন। কোনো ধরনের ত’র্কে জ’ড়ালেই তাকে ধরে নিয়ে যে’তেন ট’র্চার সেলে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিল হলেও সাধারণ মানুষ তার কাছে সমস্যা নিয়ে গেলে তাকে পে’তো না। তার বডিগার্ড জাহিদ অঘোষিত কাউন্সিলর ছিলেন। এলাকার সব বিষয়াদি তিনি দেখভাল করতেন। এরকম নানা অ’ভিযোগ রয়েছে ইরফান সে’লিমের বি’রুদ্ধে। সূত্র: মানবজমিন।

Author: Admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *