সর্বকনিষ্ঠ অঙ্গদাতা > ২০ মাসের কন্যার দান করা অঙ্গে বাঁচলো ৫ জনের জীবন!

দুর্ঘটনায় ব্রেন ডেথ হওয়া ২০ মাসের শিশুর অঙ্গে জীবন বাঁচলো ৫ জনের। ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় খেলতে গিয়ে দুর্ঘটনাক্রমে বাড়ির প্রথম তলার বারান্দা থেকে পড়ে যায় ধনিষ্ঠা নামের ওই শিশুটি। দিল্লির রোহিনীর বাসিন্দা ওই শিশুর বাবা ও মা তাদের সন্তানকে যান দিল্লির স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে।

১১ জানুয়ারি শিশুটির ব্রেন ডেথ হয়ে যায়। এরপরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে ৫ জন অন্য শিশুর জন্য অঙ্গ দান করা হয়।ধনিষ্ঠার বাবা আশিস কুমার বলেন, “চিকিত্‍সক আমাদের বলেছিলেন যে ব্রেন ডেথ হয়ে যাওয়ার কারণে ধনিষ্ঠের অবস্থা অপরিবর্তনীয়। তার চিকিত্‍সা চলাকালীন আমরা অন্য বাবা মায়েদের সঙ্গে কথা বলি যারা তাদের বাচ্চাদের নিরাময়ের জন্য প্রয়োজনীয় অঙ্গ পাওয়ার বিষয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলেন।

আমরা চিকিত্‍সকদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে আমাদের মেয়ের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অন্যের প্রাণ বাঁচাতে দান করা যায় কি না। তারা হ্যাঁ বলেছিলেন।” তিনি যোগ করেছেন, “একসঙ্গে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে মেয়ের মৃতদেহ সত্‍কার করার পরিবর্তে অন্য বাচ্চাদের বাঁচানোর জন্য আমরা এই মহত্‍ উদ্দেশ্যে যাব।

কমপক্ষে, আমাদের এই সান্ত্বনা থাকবে যে সে এখনও তাদের মধ্যে রয়েছে।” স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডি এস রানা জানিয়েছেন, পরিবারের এই মহত্‍ কাজ প্রশংসনীয় এবং অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করা উচিত। ভারতে প্রতি মিলিয়নে অঙ্গ দানের হার মাত্র ০.২৬ শতাংশ।

যা বিশ্বে সর্বনিম্ন। গড়ে প্রায় ৫ লাখ ভারতীয় প্রতি বছর অঙ্গের অভাবে মারা যান। জানা গেছে, ধনিষ্ঠার সমস্ত অঙ্গগুলি দুর্দান্ত অবস্থায় ছিল। তার হৃদপিণ্ড, লিভার, কিডনি এবং উভয় কর্নিয়া স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালে সংরক্ষণ করা হয়েছিল এবং এরপর পাঁচ রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করছিল। কিডনি একজন প্রাপ্ত বয়স্ককে দেওয়া হয়েছে, তার হৃদপিণ্ড এবং লিভার দুটি বাচ্চাকে দেওয়া হয়েছে। কর্নিয়া সংরক্ষণ করা রয়েছে।

Author: Admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *