এনজিওপ্লাস্টি কাকে বলে? এনজিওপ্লাস্টির প্রকারভেদ, উপকারিতা। (Angioplasty in Bangla)

বড় ধরনের অস্ত্রোপচার না করে হৃৎপিন্ডের সংকীর্ণ ল্যুমেনযুক্ত বা রূদ্ধ হয়ে যাওয়া করোনারি ধমনি পুনরায় প্রশস্ত ল্যুমেনযুক্ত বা উন্মুক্ত করার পদ্ধতিকে এনজিওপ্লাস্টি (Angioplasty) বলে। এনজিওপ্লাস্টির উদ্দেশ্য হচ্ছে সরু বা বন্ধ হয়ে যাওয়া ল্যুমেনের ভেতর দিয়ে হৃৎপিন্ডে পর্যাপ্ত O2 সরবরাহ নিশ্চিত করে হৃৎপিন্ড ও দেহকে সচল রাখা। বুকে ব্যথা (অ্যানজাইনা), হার্ট ফেইলিউর, হার্ট অ্যাটাক প্রভৃতি মারাত্মক রোগ থেকে মুক্তির সহজ উপায় এনজিওপ্লাস্টি।

 

এনজিওপ্লাস্টির প্রকারভেদ (Types of Angioplasty)

এনজিওপ্লাস্টির উদ্দেশ্য হচ্ছে প্লাক জমা বা রক্ত জমাটের কারণে সংকীর্ণ হয়ে যাওয়া বা রুদ্ধ হয়ে যাওয়া করোনারি ধমনির ল্যুমেন চওড়া করে O2 – সমৃদ্ধ রক্তের প্রবাহ অক্ষুন্ন রাখা। প্লাকের ধরন ও অবস্থান অনুযায়ী এনজিওপ্লাস্টির ধরনও বিভিন্ন হয়ে থাকে।

 

এনজিওপ্লাস্টি ৪ ধরনেরঃ বেলুন এনজিওপ্লাস্টি (Ballon angioplasty), লেজার এনজিওপ্লাস্টি (Laser angioplasty), অ্যাথরেকটমি (Athrectomy) ও করোনারি স্টেনটিং (Coronary stenting)।

 

 

 

 

 

 

 

 

উল্লিখিত ধরনগুলোর মধ্যে একমাত্র বেলুন এনজিওপ্লাস্টি হচ্ছে মূল ধরনের এনজিওপ্লাস্টি, অন্যগুলো সাধারণত কী ধরনের যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয় তার উপর নির্ভর করে নামাংকিত হয়েছে।

 

১. বেলুন এনজিওপ্লাস্টিঃ এ ধরনের কার্যক্রমে উর্ধ্ব বাহু বা পা-এর একটি অংশ কেটে ধমনির ভেতর দিয়ে পাতলা নল বা ক্যাথেটার (catheter) প্রবেশ করিয়ে কৌশলে রূদ্ধ বা আংশিক বুজে যাওয়া ধমনিতে পৌছানো হয়। ক্যাথেটারের আগায় স্টেনটর (stentor) নামে একটি ক্ষুদ্রাকায় তারের নল ও একটি বেলুন থাকে। জায়গা মতো পৌঁছালে এক ধরনের রঞ্জক ছড়িয়ে এক্স-রে নেওয়া হয়। এক্স-রে দেখে চিকিৎসক বুঝতে পারেন জমাট বস্তু কোথায় রয়েছে এবং ধমনির ল্যুমেন কতখানি সংকীর্ণ হয়েছে। এ পদ্ধতিকে এনজিওগ্রাম (angiogram)-ও বলে। নির্দিষ্ট জায়গায় পৌছালে বেলুনটি ফোলানো হয়। স্টেন্ট উন্মুক্ত করে বেলুনটি ধমনিপ্রাচীরে চাপ দিয়ে প্লাককে চেপে ধমনির ল্যুমেন প্রশস্ত করে দেয়। প্রক্রিয়াটি ৩০ মিনিট থেকে কয়েক ঘন্টার মধ্যে সম্পন্ন হয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

২. লেজার এনজিওপ্লাস্টিঃ এ ধরনের এনজিওপ্লাস্টিতে ক্যাথেটারের আগায় বেলুনের পরিবর্তে একটি লেজার লাগানো থাকে। করোনারি ধমনির প্লাকযুক্ত অংশে পৌঁছে লেজার রশ্মি স্তরে স্তরে প্লাক ধ্বংস করে এবং গ্যাসীয় কণায় বাষ্পীভূত করে দেয়। শুধু লেজার নয়, এ প্রক্রিয়াটি বেলুন এনজিওপ্লাস্টির পাশাপাশিও প্রয়োগ করা যায়।

 

৩. করোনারি অ্যাথেরেকটমিঃ এটিও এনজিওপ্লাস্টির মতো একটি প্রযুক্তি তবে এক্ষেত্রে ধমনিপ্রাচীরের প্লাককে বেলুনের সাহায্যে চেপে ল্যুমেন প্রশস্ত করার পরিবর্তে ভিন্ন ভিন্ন যন্ত্র, যেমন ক্ষুদ্র ঘূর্ণী ব্লেড, ড্রিল, বেলুন ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।

 

 

 

 

 

 

৪. করোনারি স্টেনটিংঃ স্টেন্ট হচ্ছে ক্ষুদ্র কিন্তু প্রসারণযোগ্য, ধাতব যন্ত্র যা এনজিওপ্লাস্টি সম্পন্ন হলে ক্যাথেটারের সাহায্যে সংকীর্ণ ধমনি ল্যুমেনে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়। ল্যুমেন যেন আবারও সংকীর্ণ না হতে পারে সে কারণে স্টেন্টকে সেখানেই রেখে দেওয়া হয়। অর্থাৎ যাদের করোনারি ধমনি বেশ নাজুক তাদের ক্ষেত্রে স্টেন্ট অত্যন্ত উপযোগি।

 

এনজিওপ্লাস্টির উপকারিতা

করোনারি হৃদরোগের অন্যতম প্রধান রোগ সৃষ্টি হয় করোনারি ধমনিতে। ধমনির ভেতর ব্লক সৃষ্টি হলে পর্যাপ্ত O2 – সমৃদ্ধ রক্ত হৃৎপেশিতে সংবহিত হতে পারে না। ফলে হার্ট ফেইলিউর ও হার্ট অ্যাটাকের মতো মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এমন মারাত্মক অবস্থা মোকাবিলায় এনজিওপ্লাস্টি কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

 

 

 

 

 

 

 

 

এনজিওপ্লাস্টি ধমনির ল্যুমেন থেকে ব্লক অপসারণ বা হ্রাস করতে পারে এবং শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা উপশম হয়। হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কমিয়ে জীবন রক্ষায় অবদান রাখে। যেহেতু বুক উন্মুক্ত করতে হয় না সেহেতু কষ্ট, সংক্রমণ ও দীর্ঘকালীন সতর্কতার প্রয়োজন পড়ে না। বেলুন ও স্টেন্ট পদ্ধতি একই সাথে ব্যবহার করলে প্লাক-এর পুনরাবির্ভাবের সম্ভাবনা কমে যায়। মাত্র এক থেকে কয়েক ঘন্টায় জীবন রক্ষাকারী এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে এবং কয়েক দিন পর থেকেই হালকা কাজকর্ম করা সম্ভব। সুস্থ হতে ৪ সপ্তাহের বেশি লাগে না।

যাঁরা বৃক্কের অসুখে ভুগছেন, কিংবা অ্যানজিওগ্রামের সময় রঞ্জকের প্রতি অ্যালার্জি দেখা দেয় এবং যাঁদের বয়স ৭৫ বছরের বেশি তাঁদের ক্ষেত্রে এনজিওপ্লাস্টি কিছুটা অসুবিধাজনক হতে পারে।