ঘর্ষণ বল কাকে বলে? প্রকারভেদ। সুবিধা-অসুবিধা।

 

 

 

 

 

 

ঘর্ষণ

Fiction

ঘর্ষণ বল হলো এমন এক ধরণের বল যা দুটি চলমান বস্তুর গতিকে বাধা প্রদান করে।

ঘর্ষণ বল দুই ধরনের হয়ে থাকে। স্থিতি ঘর্ষণ এবং চলমান ঘর্ষণ।

যেমনঃ একটি টেবিলের উপর রাখা একটি বই হাত দিয়ে টেনে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে গেলে টেবিলের সাথে বইয়ের গতি বাধাপ্রাপ্ত হয়।

এই বাধা প্রদানের ফলে এক ধরনের বল সৃষ্টি হয়, যাকে বলা হয় ঘর্ষণ বল। এখানে টেবিল স্থির হলেও বইটি গতিশীল অর্থাৎ চলমান।

 

ঘর্ষণ বল কেন উৎপন্ন হয়?

মূলত যে দুটি বস্তুর মধ্যে সংঘর্ষ হয়, ওই বস্তু দুটিতে স্পর্শতল অমসৃণ হওয়ার কারণে ঘর্ষণ বলের সৃষ্টি হয়।

আপাত দৃষ্টিতে স্পর্শ তল দুটি দেখতে মসৃণ মনে হলেও অনুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখলে তল দুটিতে অনেক উঁচু নিচু খাঁজ দেখা যাবে।

যখন একটি বস্তু অন্য একটি বস্তুএ উপর দিয়ে গতিশীল হয়, তখন এই খাঁজ গুলো একটির ভিতর দিয়ে অন্যটি ঢুকে পরে।

অর্থাৎ খাঁজ গুলো একটির ভিতর অন্যটি আঁটকে পরে। এর ফলে গতি বাধাপ্রাপ্ত হয়। তখন ই মূলত ঘর্ষণ বলের উৎপত্তি হয়।

ঘর্ষণ বলের প্রকারভেদ

ঘর্ষণ বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যেমন:

 

১। যেকোনো দুটি কঠিন বস্তুর তলের মধ্যবর্তী ঘর্ষণ।

২। তরল পদার্থের মধ্যেকার দুটি তলের মধ্যকার ঘর্ষণ বল।

৩। দুটি বস্তুর একটি কঠিন ও একটি তরলের মধ্যবর্তী ঘর্ষণ বল।

৪। পদার্থের অভ্যন্তরীণ ঘর্ষণ বল।

 

 

 

 

 

 

 

ঘর্ষণ বলের সুবিধা:

১। ঘর্ষণের কারণেই আমরা কোনো বস্তুকে আঁকড়ে ধরে রাখতে পারি। ঘর্ষণ না থাকলে আমাদের হাতে থাকা কলমটিও হাত থেকে পিছলিয়ে পরে যেতো।
২। ঘর্ষণ আছে বলেই আমরা রাস্তাই চলাচল করতে পারি। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারি।
নতুবা আমরা সোজা হয়ে দাড়াতেই আমরা পিছলিয়ে পরে যেতাম।
৩। ঘর্ষণের কারণেই দুর্ঘটনা কবলিত একটি গাড়ি ব্রেক কষে গাড়িকে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করে।

ঘর্ষণ বলের অসুবিধা:

১। ঘর্ষণ গতির বিরুদ্ধে কাজ করে বলে, কোনো বস্তুকে গতিশীল করতে ঘর্ষণকে অতিক্রম করতে হয়। এতে অতিরিক্ত কাজ সম্পাদন করতে হয়।
২। প্রতিনিয়ত ব্যবহার্য যন্ত্রপাতি মধ্যে অসংখ্যবার ঘর্ষণ বলের সৃষ্টি হয়। এতে যন্ত্রাংশগুলির ব্যপক ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এবং যন্ত্রাংশগুলো তারাতারি নষ্ট হয়ে যায়।