তরঙ্গ কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি? তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য

তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য:

আমরা সবাই তরঙ্গ দেখেছি। পানিতে যখন কোন ঢিল ছুড়া হয় তখন সেই বিন্দু থেকে পানির তরঙ্গ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঘরে লাইন অন করলে আলো ঘরের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, সেটাও তরঙ্গ। আমরা যখন কথা বলি আর সে শব্দটা যখন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে, সেটাও তরঙ্গ। একটা স্প্রিংকে সংকুচিত করে ছেড়ে দিলে তার ভিতর দিয়ে যে বিচ্যুতিটি ছুড়ে যায় সেটাও তরঙ্গ। এক কথায় বলা যায় তরঙ্গ কি আমরা সেটা অনুভব করতে পারি। কিন্তু এভাবে বললে ত তরঙ্গের সঙ্গা হবে। তাহলে চলুন তরঙ্গ কাকে বলে? তরঙ্গ কত প্রকার ও কি? তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি সম্পর্কে জেনে নেই।

তরঙ্গ কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি? তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য

তরঙ্গ কাকে বলে? কত প্রকার ও কি কি? তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য: আমরা সবাই তরঙ্গ দেখেছি। পানিতে যখন কোন ঢিল ছুড়া হয় তখন সেই বিন্দু থেকে পানির তরঙ্গ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঘরে লাইন অন করলে আলো ঘরের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, সেটাও তরঙ্গ। আমরা যখন কথা বলি আর সে শব্দটা যখন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে, সেটাও তরঙ্গ। একটা স্প্রিংকে সংকুচিত করে ছেড়ে দিলে তার ভিতর দিয়ে যে বিচ্যুতিটি ছুড়ে যায় সেটাও তরঙ্গ। এক কথায় বলা যায় তরঙ্গ কি আমরা সেটা অনুভব করতে পারি। কিন্তু এভাবে বললে ত তরঙ্গের সঙ্গা হবে। তাহলে চলুন তরঙ্গ কাকে বলে? তরঙ্গ কত প্রকার ও কি? তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি সম্পর্কে জেনে নেই।

 

তরঙ্গ কাকে বলে? তরঙ্গ কি?

যে পর্যাবৃত্ত আন্দোলন কোন জড় মাধ্যমের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারিত করে কিন্তু মাধ্যমের কণাগুলোকে স্থানান্তরিত করে না তাকে তরঙ্গ বলে। যেমন – তড়িৎ চুম্বক তরঙ্গ, মহাকর্ষীয় তরঙ্গ,পানির তরঙ্গ ইত্যাদি।

 

 

 

 

তরঙ্গ কত প্রকার ও কী কী?

তরঙ্গ প্রবাহের দিক এবং মাধ্যমের কণাগুলোর কম্পনের দিকের ওপর ভিত্তি করে তরঙ্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো –

 

অনুপ্রস্থ তরঙ্গ এবং

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ

অনুপ্রস্থ তরঙ্গঃ যে তরঙ্গ কম্পনের দিকের সাথে লম্বভাবে অগ্রসর হয়, তাকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে। যেমন – পানির তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গের উদাহরণ

 

 

 

 

 

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গঃ যে তরঙ্গ কম্পনের দিকের সাথে সমান্তরালভাবে অগ্রসর হয়, তাকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে। যেমন – বায়ু মাধ্যমে শব্দের তরঙ্গ অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের উদাহরণ।

 

অনুপ্রস্থ তরঙ্গের সর্বোচ্চ বিন্দুকে তরঙ্গশীর্ষ ও সর্বনিম্ন বিন্দুকে তরঙ্গপাদ বলে। তেমনিভাবে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গের অনুরূপ রাশি হচ্ছে সঙ্কোচন ও প্রসারণ।

 

 

 

 

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ ও অনুপ্রস্থ তরঙ্গের মধ্যে পার্থক্য কি কি?

নিম্নে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ ও অনুপ্রস্থ তরঙ্গের মধ্যে পার্থক্য দেওয়া হলো –

 

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ

যে তরঙ্গ কম্পনের দিকের সাথে সমান্তরালভাবে অগ্রসর হয়, তাকে অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে। যে তরঙ্গ কম্পনের দিকের সাথে লম্বভাবে অগ্রসর হয়, তাকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে।

উদাহরণ – বায়ু মাধ্যমে শব্দের তরঙ্গ, স্প্রিং তরঙ্গ। উদাহরণ – পানির তরঙ্গ, আলোক তরঙ্গ।

অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গে সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে তরঙ্গ সঞ্চালিত হয়। অন্যদিকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ মাধ্যমে তরঙ্গশীর্ষ ও তরঙ্গপাদ উৎপন্ন করে সঞ্চালিত হয়।

একটি সংকোচন ও একটি প্রসারণ নিয়ে তরঙ্গদৈর্ঘ্য গঠিত। অন্যদিকে একটি তরঙ্গশীর্ষ ও একটি তরঙ্গপাদ নিয়ে তরঙ্গদৈর্ঘ্য গঠিত।

 

 

 

 

 

তরঙ্গের বৈশিষ্ট্য কি কি?

মাধ্যমের কণার স্পন্দন গতির ফলে তরঙ্গ সৃষ্টি হয় কিন্তু মাধ্যমের কণা স্থানান্তরিত হয় না।

তরঙ্গের বিস্তার,কম্পন, তরঙ্গদৈর্ঘ্য আছে।

সব তরঙ্গই শক্তি ও তথ্য সঞ্চারণ করে।

তরঙ্গ অগ্রগামী বা স্থির হতে পারে।

তরঙ্গ প্রবাহের দিক আছে।

তরঙ্গের প্রতিফলন, প্রতিসরণ,ব্যতিচার,অপবর্তন ঘটে।

তরঙ্গ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চারণ করে।

যান্ত্রিক তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য মাধ্যমের প্রয়োজন হয়।

তরঙ্গের বেগ মাধ্যমের প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। ইত্যাদি।

তরঙ্গ মাধ্যম

যে জড় মাধ্যম দ্বারা তরঙ্গ সঞ্চারিত হয় তাকে তরঙ্গ মাধ্যম বলা হয়। তরঙ্গ মাধ্যমকে নিম্নোক্তভাবে ভাগ করা যায়। যথাঃ

 

 

 

সীমিত মাধ্যম

অসীম মাধ্যম

সরলরৈখিক মাধ্যম

হোমোজেনিয়াস বা সম মাধ্যম

আইসোট্রপিক মাধ্যম

তরঙ্গ সৃষ্টির কারণ

দৈনন্দিন জীবনে শক্তি ও তথ্য আদান প্রদানের অন্যতম মাধ্যম হলো তরঙ্গ। তরঙ্গ ব্যতীত আমরা সূর্য থেকে আলো বা তাপ কোনোটাই পেতাম না। কোন কথা শুনতে বা শোনাতে পারতাম না। তাই তরঙ্গ সৃষ্টি হয়।

 

দৈনন্দিন জীবনে শক্তি ও তথ্য আদান প্রদানের অন্যতম মাধ্যম হলো তরঙ্গ। তরঙ্গ ব্যতীত আমরা সূর্য থেকে আলো বা তাপ কোনোটাই পেতাম না। কোন কথা শুনতে বা শোনাতে পারতাম না। তাই তরঙ্গ সৃষ্টি হয়।

 

 

 

 

 

তরঙ্গ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন

তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কাকে বলে?

উত্তর : তরঙ্গ সঞ্চারণকারী কোন কণার একটি পূর্ণ স্পন্দন সম্পন্ন হতে যে সময় প্রয়োজন হয়, সে সময়ে তরঙ্গ যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বলা হয়। তরঙ্গ দৈর্ঘ্যকে λ (ল্যামডা) দ্বারা প্রকাশ করা হয়

 

পানির ঢেউ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ কেন?

 

 

 

উত্তর : যে তরঙ্গ কম্পনের দিকের সাথে লম্বভাবে অগ্রসর হয়, তাকে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বলে। পানির ঢেউ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ কারণ এই তরঙ্গ পানির কণার স্পন্দনের দিকের সাথে লম্বভাবে অগ্রসর হয় এবং তরঙ্গে পর্যায়ক্রমে তরঙ্গশীর্ষ ও তরঙ্গপাদ থাকে। তাই পানির ঢেউ অনুপ্রস্থ তরঙ্গ।

 

তরঙ্গ বেগ কাকে বলে?

উত্তর : তরঙ্গ নির্দিষ্ট দিকে একক সময়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গ বেগ বলা হয়।

 

তরঙ্গের দশা কাকে বলে?

উত্তর : তরঙ্গায়িত কণার যে কোনো মুহূর্তের গতির সামগ্রিক অবস্থা প্রকাশক রাশিকে দশা বলে।

 

 

 

 

তরঙ্গমুখ কাকে বলে?

উত্তর : তরঙ্গস্থিত সমদশাসম্পন্ন বস্তুকণাগুলো যে তলে অবস্থান করে তাকে তরঙ্গের তরঙ্গমুখ বলা হয়।

 

স্থির তরঙ্গ কাকে বলে?

উত্তর : একই বিস্তার এবং কম্পাঙ্ক বিশিষ্ট দুইটি তরঙ্গ যখন মাধ্যমের একটি বদ্ধ স্থানে পরস্পর বিপরীত দিকে সঞ্চালিত হয় তখন এদের মিলনের ফলে যে লব্ধি তরঙ্গের সৃষ্টি হয় তাকে স্থির তরঙ্গ বলে।

 

 

 

 

 

যান্ত্রিক তরঙ্গ কাকে বলে?

উত্তর : যে তরঙ্গ সঞ্চালনের জন্য স্থিতিস্থাপক মাধ্যমের প্রয়োজন হয় তাকে যান্ত্রিক তরঙ্গ বলে। যেমন – পানির তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ।

 

তাপ তরঙ্গ কি?

উত্তর : তাপ তরঙ্গ হলো এক প্রকার তরঙ্গ, যা কোন মাধ্যম ছাড়াই বিকিরণের মাধ্যমে উষ্ণ স্থান হতে শীতল স্থানে সঞ্চালিত হয়।

 

তরঙ্গের দ্রুতি কাকে বলে?

উত্তর : একক সময়ে তরঙ্গ যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে তরঙ্গের দ্রুতি বলে।

 

লম্বিক তরঙ্গ কাকে বলে?

উত্তর : অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গকে লম্বিক তরঙ্গ বলা হয়। যে তরঙ্গ কম্পনের দিকের সাথে সমান্তরালভাবে অগ্রসর হয় তাকে লম্বিক তরঙ্গ বা অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ বলে। যেমন, বায়ু মাধ্যমে শব্দের তরঙ্গ।

 

তরঙ্গস্থিত কোনো বিন্দুর দশা বলতে কি বুঝায়?

উত্তর : কোনো একটি তরঙ্গায়িত কণার যেকোনো মুহুর্তের গতির সামগ্রিক অবস্থা প্রকাশক রাশিকে তার দশা বলে। গতির সামগ্রিক অবস্থা বলতে গতির দিক, সরণ, বেগ, ত্বরণ ইত্যাদিকে বুঝায়। অনুপ্রস্থ তরঙ্গের ঊর্ধ্বচূড়াসমূহ বা নিম্নচূড়াসমূহ সর্বদা একই দশায় বা অবস্থায় থাকে।